Translate

Search This Blog

বিশেষ সতর্কবার্তাঃ

এই ব্লগটি নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, সন্দেহবাদী, মুক্তমনা এবং স্বাধীনচেতা মানুষদের জন্য। যারা যেকোন বিষয়ের সমালোচনা সহ্য করার মত ক্ষমতা রাখে। যদি কোন ধার্মিক, গোড়া ধার্মিক আস্তিক এই ব্লগটিতে আসে তবে তার ধর্মানুভূতি নামের অদ্ভূত দূর্বল অনিভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হলে ব্লগ লেখক দায়ী থাকবে না। ধার্মিক, গোড়া ধার্মিক আস্তিকদের নিজ দায়িত্বে তাদের দূর্বল ধর্মানুভূতিকে সংরক্ষনের দায়িত্ব নিতে হবে। কারো ধর্মানুভূতি নামের অযৌক্তিক অনুভূতি আহত হবার জন্য কোন ক্রমেই ব্লগার বা লেখককে দায়ী করা যাবে না। যদি কোন অতি দুর্বল ধর্মানুভূতি সম্পন্ন ব্যাক্তি এই ব্লগে ভূল করে ঢুকে পরেন এবং তিনি তার অনুভূতিকে দূর্বল ভাবেন অর্থাৎ যিনি তার ধর্মের উপযুক্ত সমালোচনা সহ্য করতে অপারগ, তাকে বিনীত ভাবে এই ব্লগটি থেকে প্রস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এর পরেও যদি কোন দূর্বল ধর্মানুভূতি সম্পন্ন ব্যাক্তি এই ব্লগটিতে ঘুরাফেরা করেন এবং তার ফলে তার দূর্বল ধর্মানুভূতিতে আঘাত প্রাপ্ত হন তবে কোন ক্রমেই এবং কোন ক্রমেই ব্লগের মালিক, 'আমি নাস্তিক' দায়ী থাকবে না।

Wednesday, June 25, 2014

কেন আমরা আমাদের চিন্তার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা ?


কেন আমরা আমাদের চিন্তার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা ?

প্রত্যেকটা মানুষের কিছু নিজস্ব ধ্যান ধারণা থাকে l যেসব ধারণার বাইরে সে বেরিয়ে আসতে পারেনা l যেমন যে মানুষটি জন্মের পর থেকে দেখেছে যে তার চারপাশের কিছু মানুষ ভীষণ পর্দাশীল l সবাই ঘরে বসে থাকে l তাদের কে তাদের গুরুজনরা শেখায় যে সৃষ্টি কর্তা ঐসব মানুষদের কে পর্দাশীল হয়ে থাকতে বলেছেন l বাইরে যেতে বিশেষ করে পর্দাশীল না হয়ে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন l যাতে করে পরপুরুষ না দেখতে পায় l ফলে বিভিন্ন রকম পাপাচার থেকে মুক্ত থাকা যায় l এবং এটাই পাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় l ফলে সে এটাই সারাজীবন মনে ধারণ করে থাকে l একদিন হঠাত করে যদি সে দেখে যে কেউ একজন (ওই বিশেষ শ্রেনীর মানুষ ) পর্দা না করে চলাচল করে তবে সে সেটা মেনে নিতে পারে না l সে ভাবে এটা পাপ কাজ l অর্থাত পর্দা না করে বাইরে আসা পাপের কাজ l এটা অন্যায় কাজ l
আবার যে মানুষটা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে তার চার পাশের মানুষ গুলো (বিশেষ মানুষ গুলো ) স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করে l বাইরে যায় স্বাভাবিক ভাবে l কাজ করে সবার সাথে সমান অধিকার নিয়ে l সেখানে কোনো মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই l সবাই সমান অধিকার নিয়ে ভালো ভাবে বেচে আছে l সেই ছেলেটি যদি দেখে যে একটা মেয়ে পর্দা ছাড়া চলাচল করছে সে কিন্তু ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিবে l কারণ তার শৈশবের ধ্যান ধারনায় এরকমটিই সে দেখে এসেছে l কিন্তু ছেলেটা যদি দেখে একটা মেয়ে খুব পর্দা করে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে সে কিন্তু খুব অবাক হয়ে যাবে l এবং তার কাছে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুদ লাগবে l
আবার যে ছেলেটা দেখে এসেছে তার চার পাশের মানুষ গুলো নামাজ পরে, রোজা রাখে এবং গরু কুরবানী দেয় সে কিন্তু একেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিবে l সেই ছেলেকে শেখানো হয় যে কোনো কিছু নিজে নিজেই সৃষ্টি হতে পারে না তার একটা সৃষ্টি কর্তা আছে l এবং সেই সৃষ্টি কর্তা হলো আল্লাহ l তিনি এক , তিনি সব ক্ষমতার অধিকারী তিনি করতে পারেনা এমন কোনো কাজ নেই l তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন শূন্য থেকে l একদিন এই বিশ্ব জগত ছিল না l আল্লাহ কুন (হও) বলল আর অমনি সমস্ত বিশ্বজগত তৈরী হলো l তিনি এই বিশ্বজগত পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ফেরেস্তা তৈরী করলেন l যারা এই বিশ্বজগত পরিচালনা করে l তারা আল্লাহর আদেশে সব কাজ করেন l আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষ তৈরী করেছে মাটি থেকে l প্রথম যে মানুষটিকে তৈরী করেছিলেন তার নাম আদম l আবার আদমের শরীর থেকে তার সঙ্গী হাওয়াকে তৈরী করেছিলেন l তাদের কে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন সম্পূর্ণ রূপে তৈরী অবস্থায় l আর এভাবেই পৃথিবীতে মানুষের উত্পত্তি l সবসময় আল্লাহের প্রার্থনা করতে হবে l অন্য কারো প্রার্থনা করা যাবে না l একমাত্র আল্লাহই এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি কর্তা l সুতরাং আল্লাহর কথা মতই চলতে হবে l তার প্রত্যেকটা আদেশ নিষেধ সম্পূর্ণ রূপে পালন করতে হবে l
আর এই বিশ্বাস গুলো নিয়ে সেই মানুষটি বড় হয় l এবং এই ধারণার বাইরে সে যেতে পারেনা l তার চিন্তাগুলো আচ্ছন্ন থাকে এই বিশ্বাসকে ঘিরে l সে এই পৃথিবীতে যাকিছুই দেখে তার মধ্যেই তার সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখতে পায় l
সে যখন দেখে যে অন্য আরেকটা মানুষ এইসব আচার আচরণ পালন করছে না l তারা অন্য রকম আচার আচরণ পালন করছে l তারা আল্লাহকে মানছে না l তারা অন্য একজন সৃষ্টি কর্তাকে মানছে l সেই মানুষটি এটাকে মেনে নিতে পারেনা l শৈশব থেকে যেমনটি সে শিখে এসেছে সেই অনুযায়ী সে ভেবে নেয় ওই মানুষ গুলো ভুল পথে চলছে l তারা পাপের পথে চলছে l যেমনটি তাকে শেখানো হয়ছে সেই বিশ্বাসেই সে ধরে নেয় একমাত্র তার ঈশ্বরই সত্য এবং তার ধর্মই সত্য l আর যারা সেই ধর্ম মত চলছে না তারা নিশ্চিত জাহান্নামে যাবে l
তাকে যদি যুক্তি দিয়ে বোঝানো হয় তবুও সে মেনে নেবে না যে তার ধ্যান-ধারণা ভুল l তাকে হাজার যুক্তি প্রমান দিয়ে বুঝালেও সে মেনে নিতে পারবে না যে তার বিশ্বাস গুলো ভুল l
মানুষের শৈশবের ধারণা, যুক্তি, বুদ্ধি গুলো মস্তিস্কে স্থায়ী ভাবে গেথে যায় l পরবর্তিতে তার যুক্তি , বুদ্ধি , পর্যবেক্ষণগুলো সেই শৈশবের বিশ্বাসের ছাকনি দিয়ে ছেকে মস্তিস্কে ঢুকে l ফলে ওই মানুষটি যা চিন্তা করে তার সাথে মিশে থাকে তার শৈশবের বিশ্বাসের ছাকনি l যে ছাকনি দিয়ে তার সব চিন্তা ধারা, যুক্তি এবং পর্যবেক্ষণ গুলো ছেকে ছেকে মস্তিস্কে পৌছে l সেজন্যই এই মানুষটি তার শৈশবের বিশ্বাসের বাইরে কখনো আসতে পারে না l তার কাছে তার বিশ্বাস , তার ধর্ম এবং তার সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র সত্য l পৃথিবীর আর কোনো কিছুই সত্য নয় l
আবার যে ছেলেটা হিন্দু ঘরে জন্ম নেয় , সে তার চার পাশের মানুষ গুলোকে দেখে , তাদের আচার আচরণ পালন করে l তাকেও শেখানো হয় কোনো কিছু এমনি এমনি তৈরী হয় না l সব সৃষ্টিরই একজন সৃষ্টি কর্তা থাকে l আর সে তার আশে পাশের লোকগুলোর সৃষ্টি কর্তাকেই বিশ্বাস করে l শৈশবেই তাকে বিশ্বাস করানো হয় তার ধর্মের আচার আচরণ এবং প্রার্থনাই তাদেরকে স্বর্গে নিয়ে যেতে পারবে l অন্য কোনো ধর্মের মানুষ যাই করুক না কেন তারা যাবে নরকে l একমাত্র তাদের ঈশ্বরই সত্যি বাকি সব মিথ্যা l ফলে সে এই বিশ্বাসেই বড় হয় যে তাদের ধর্মই পারে মানব জাতির মুক্তি দিতে l আর অন্য ধর্ম গুলোর অনুসারী যাবে নরকে l
তাকে হাজার যুক্তি দিয়ে বোঝালেও সে বুঝতে চায়না যে তার ধর্ম মিথ্যা হতে পারে l সে তার বিশ্বাস থেকে দৃঢ় ভাবে প্রতিবাদ করে যে তার ধর্ম মিথ্যা হতে পারে না l এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এই বিশ্বাসকে আকড়ে ধরে থাকে l সে কিছুতেই তার বিশ্বাসের বাইরে যেতে পারে না l
অন্যন্য ধর্মের মানুষ গুলোও একই ভাবে তার বিশ্বাস কে চিরসত্য এটা বিশ্বাস করে l এবং হাজার যুক্তি প্রমান দিয়ে তাকে বোঝানো যায় না যে তার বিশ্বাস মিথ্যা হতে পারে l এবং সে তার বিশ্বাসকেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সত্য বলে বিশ্বাস করে l
এখন কথা হচ্ছে কেন মানুষ তার শৈশবের ধ্যান ধারণার বাইরে যেতে পারে না l
এর কারণ মানুষের মস্তিস্কের কার্য প্রণালী l বিজ্ঞান বলে মানুষ শৈশবে যে বিশ্বাস নিয়ে বড় হয় তার মস্তিস্কে সেটা স্থায়ী ভাবে প্রভাব ফেলে l এবং সহজে সেই বিশ্বাস গুলো দূর করা যায় না l এই বিশ্বাস গুলো মস্তিস্কে ছাকনির মত কাজ করে l সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটা হচ্ছে মানুষ তার জীবনে যা জানে , দেখে , এবং যে জ্ঞান সে অর্জন করে সেগুলো সেই বিশ্বাসের ছাকনি দিয়ে ছেকে ছেকে তার মস্তিস্কে প্রবেশ করে l ফলে সে যদি দেখে যে অন্য ধর্মের মানুষ গুলো সম্পূর্ণ রূপে অন্য ভাবে, অন্য বিশ্বাসে বেচে আছে তখন সে ভাবে সেই অন্য ধর্মের লোক গুলো কত বোকা ! কি ভ্রান্ত ধারণার মাঝেই না সেই লোক গুলো আছে ! কিন্তু একথা সে বুঝতে পারেনা যে তার বিশ্বাস গুলোও মিথ্যা হতে পারে l সে যে যুক্তি গুলো বুঝে সেই যুক্তি গুলোও যে মিথ্যা হতে পারে সেটা সে বুঝতে পারেনা l সে শুধু অন্যের যুক্তি মিথ্যা এটাই বিশ্বাস করে l এবং তার যুক্তিতে সে এটাই দেখতে পায় l আর ঠিক এই কারণেই সে তার নিজের বিশ্বাস কে সত্যি এবং অন্যের বিশ্বাসকে মিথ্যা বলে জানে l
আর এই জন্যই বিজ্ঞানের যেসব আবিষ্কার তাদের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক সেই বিষয় গুলো মেনে নিতে পারে না l তাকে হাজার যুক্তি দিলেও সে সেই যুক্তি গুলো বুঝতে পারে না l আর সেই যুক্তি গুলোকে বুঝতেও চায়না l বিজ্ঞানের সেই সব যুক্তি গুলি তাদের শৈশবের সেই বিশ্বাসের ছাকনি দিয়ে ছেকে ছেকে তার মস্তিস্কে প্রবেশ করে l ফলে সেই বিশ্বাসের জাল থেকে সে মুক্ত হতে পারে না l সে সারা জীবন তার ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বেচে থাকে l কিন্তু বিজ্ঞানের সত্ততা সে স্বীকার করে না l ( আসলে সে স্বীকার করতে পারে না ) l আর এর জন্য তাদের কোনো দোষ নেই , দোষ হচ্ছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার l
সমাজ তার নিজস্ব বিশ্বাস একটা শিশুর উপর চাপিয়ে দেয় যখন সে কোনো বিশ্বাস করার যোগ্যতা অর্জন করে না l সমাজ তাদের নিজস্ব ভ্রান্তি তাদের শিশুদের উপর চাপিয়ে দেয় যখন সেই শিশুটির কোনো যুক্তি বোঝার ক্ষমতা তৈরী হয়না l ফলে সেই শিশুটি সমাজ ব্যবস্থার যুক্তি , সেই সমাজের বিশ্বাস মেনে নিতে বাধ্য হয় l তার নিজস্ব কোনো বিশ্বাস , নিজস্ব কোনো যুক্তিতে চলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় l শিশু তার বাবা-মা তার সমাজের বিশ্বাস মেনে নিতে বাধ্য হয় l সমাজ তাকে নিজস্ব চিন্তা, নিজস্ব যুক্তি এবং নিজস্ব বিশ্বাস অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে l আর এজন্যই একজন মানুষ মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়ে হয় মুসলমান l হিন্দুর ঘরে জন্ম নিয়ে হয় হিন্দু l খ্রিস্টানের ঘরে জন্ম নিয়ে হয় খ্রিস্টান l এই মানুষ গুলো জীবনের কখনো নিজে নিজের ধর্ম বেছে নিতে পারে না l বিশেষ করে তার মুক্ত চিন্তা করার সক্ষমতাই সে অর্জন করতে পারে না l সমাজ তার মুক্ত চিন্তার স্বীমারেখা নির্ধারণ করে দেয় l সে তার বাইরে যেতে পারে না l কোনো মানুষই স্বাধীন ভাবে , তার চিন্তার অনুযায়ী বিশেষ করে মুক্তভাবে ( অন্যের বিশ্বাস ব্যতিত) চিন্তা করে চলতে পারে না l একজন যতই বলুক আমি আমার যুক্তি বুদ্ধি অনুযায়ী চলি কিন্তু তার যুক্তির উপর একটা বিশ্বাসের আবরণ এবং মুক্ত চিন্তার উপর ভ্রান্তির জাল তৈরী করা হয়ে যায় তার নিজস্বতা সৃষ্টি হবার আগেই l বস্তুত সে আর স্বাধীন থাকে না তার বিশ্বাসে , তার যুক্তিতে l

আর এই জন্যই মানুষ তার চিন্তার , তার যুক্তির বেড়াজাল থেকে কখনো বের হতে পারে না l

No comments:

Post a Comment