Translate

Search This Blog

বিশেষ সতর্কবার্তাঃ

এই ব্লগটি নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, সন্দেহবাদী, মুক্তমনা এবং স্বাধীনচেতা মানুষদের জন্য। যারা যেকোন বিষয়ের সমালোচনা সহ্য করার মত ক্ষমতা রাখে। যদি কোন ধার্মিক, গোড়া ধার্মিক আস্তিক এই ব্লগটিতে আসে তবে তার ধর্মানুভূতি নামের অদ্ভূত দূর্বল অনিভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হলে ব্লগ লেখক দায়ী থাকবে না। ধার্মিক, গোড়া ধার্মিক আস্তিকদের নিজ দায়িত্বে তাদের দূর্বল ধর্মানুভূতিকে সংরক্ষনের দায়িত্ব নিতে হবে। কারো ধর্মানুভূতি নামের অযৌক্তিক অনুভূতি আহত হবার জন্য কোন ক্রমেই ব্লগার বা লেখককে দায়ী করা যাবে না। যদি কোন অতি দুর্বল ধর্মানুভূতি সম্পন্ন ব্যাক্তি এই ব্লগে ভূল করে ঢুকে পরেন এবং তিনি তার অনুভূতিকে দূর্বল ভাবেন অর্থাৎ যিনি তার ধর্মের উপযুক্ত সমালোচনা সহ্য করতে অপারগ, তাকে বিনীত ভাবে এই ব্লগটি থেকে প্রস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এর পরেও যদি কোন দূর্বল ধর্মানুভূতি সম্পন্ন ব্যাক্তি এই ব্লগটিতে ঘুরাফেরা করেন এবং তার ফলে তার দূর্বল ধর্মানুভূতিতে আঘাত প্রাপ্ত হন তবে কোন ক্রমেই এবং কোন ক্রমেই ব্লগের মালিক, 'আমি নাস্তিক' দায়ী থাকবে না।

Monday, March 30, 2015

কেন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয় । (পর্ব ১) সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই কেন?



আস্তিকদের দাবী বিশ্বজগত, প্রাণীজগত ও জড়জগতকে একজন সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেকিন্তু সেই সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে কেউ সৃষ্টি করেনিকারণ হলো সেই সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করার প্রয়োজন হয়নি কিন্তু বিশ্বজগতের সব কিছুকে সৃষ্টি করার প্রয়োজন হয়েছে
বিশ্বজগতের সব কিছুকে কেন সৃষ্টি করার দরকার পরলো? সৃষ্টি না করলে কি এগুলো থাকতে পারতো না? সৃষ্টি করা ছাড়া কি এদের অস্তিত্ব থাকতো না?
আস্তিকরা এই প্রশ্নের খুব হাস্যকর উত্তর দেয়তারা বলে, সৃষ্টি থাকলে সেই সৃষ্টির অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা থাকতে হবেকোন কিছুকে সৃষ্টি করা ছাড়া সেটা অস্তিত্বশীল হতে পারে নাসৃষ্টি থাকলে অবশ্যই সেই সৃষ্ট বস্তু বা উপাদানকে সৃষ্টি হতেই হবেসৃষ্টি করা ছাড়া কোন কিছুই সৃষ্ট হতে পারবে না
কোন অস্তিত্বশীল জিনিসকে কেন সৃষ্টি করতে হবে? সৃষ্টি করা ছাড়া কোন জিনিস চিরকাল থেকে অস্তিত্বশীল থাকতে পারে না কি?
আস্তিকদের উত্তর- না পারে নাকোন কিছুকে অস্তিত্বশীল থাকতে হলে অবশ্যই তাকে সৃষ্টি করতে হবেবিশ্বজগতের সব অস্তিত্বশীল উপাদানই সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেনসে যদি এসব সৃষ্টি না করতো তবে কোন কিছুই থাকতো নাকারণ সৃষ্টি করা ছাড়া কোন কিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে না


কেন পারবে না? কোন কিছু সৃষ্টি হওয়া ছাড়া চিরকাল ধরে অস্তিত্বশীল থাকলে সমস্যা কি? এমনটা কি হতে পারে না যে, বিশ্বজগতের সব উপাদান চিরকাল ধরে সৃষ্ট হওয়াই ছিল; কেউ এগুলোকে সৃষ্টি করেনি; তাই কোন সৃষ্টিকর্তারও দরকার পরেনি?
আস্তিকদের উত্তর- না চিরকাল ধরে বিশ্বজগতের উপাদান অস্তিত্বশীল থাকতে পারবে নাঅবশ্যই তার একজন সৃষ্টিকর্তা থাকতে হবেতা না হলে এসব কিছু সৃষ্টি হতে পারবে না
কিন্তু এসব কিছুকে সৃষ্টি করার প্রয়োজনটাই বা কি? এসব উপাদান চিরকাল ধরে থাকলে সমস্যা কোথায়?
আস্তিকদের উত্তর- সমস্যা আছেকোন কিছু সৃষ্টি করা ছাড়া কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়তাই যা কিছু অস্তিত্বশীল তার সব কিছু কাউকে অবশ্যই সৃষ্টি করতে হবে এবং এজন্যই একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকবে
কিন্তু কেন কোন কিছু সৃষ্টি করা ছাড়া অস্তিত্বশীল হতে পারবে না সেটাইতো জানতে চাচ্ছি?
আস্তিকদের উত্তর- কারণ সৃষ্টি করা ছাড়া কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়অস্তিত্বশীল থাকলে তাকে অবশ্যই সৃষ্টি হতে হবেআর সৃষ্টিকর্তা সব কিছুকে সৃষ্টি করে থাকে
তাহলে আপনি বলছেন কোন কিছু সৃষ্টি করা ছাড়া সেটি অস্তিত্বশীল হতে পারে নাঅর্থাৎ সব কিছুকে সৃষ্টি হতেই হবে?
আস্তিকদের উত্তর- হ্যা ঠিক তাইআর যিনি সব কিছুকে সৃষ্টি করেন তিনিই হলো সৃষ্টিকর্তা

তাহলে সেই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকর্তা কে? আপনি বলেছেন সৃষ্টি থাকলে তার সৃষ্টিকর্তা থাকবেই; অস্তিত্বশীল হতে হলে তাকে সৃষ্টি হতেই হবে; তাহলেতো সেই সৃষ্টিকর্তারও একজন সৃষ্টিকর্তা থাকতে হবেতা না হলেতো সেও সৃষ্টি হতে পারবে না; তাই সে অস্তিত্বশীলও হতে পারবে না

এ পর্যায়ে এসে আস্তিকরা আমতা আমতা করতে থাকেতারা আমতা আমতা করে বলে- না সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা নেইকারণ সে সৃষ্টিকর্তাআর তাই সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে না

আমি ভেবেছি আপনি বলেছেন, যা কিছু অস্তিত্বশীল তার সব কিছুকেই সৃষ্টি করতে হবে তা না হলে সেটা অস্তিত্বশীর হতে পারবে না

তখন আস্তিকরা বলতে থাকে, না সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা নেইসৃষ্টিকর্তা অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই অস্তিত্বশীল হয়েছেনএবং তার সৃষ্টি হবার প্রয়োজন নেই
কিন্তু কেন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি হবার প্রয়োজন নেই সেই প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারে না
যদি সৃষ্টিকর্তা কোন সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সৃষ্টি হতে পারে তবে বিশ্বজগতের সব কিছু কেন কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অস্তিত্বশীল হতে পারবে না? কেন তার একজন সৃষ্টিকর্তা থাকতেই হবে যেখানে সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা নেই?

আজ পর্যন্ত এই প্রশ্নটির কোন যৌক্তিক উত্তর আস্তিকরা দিতে পারেনিতারা শুধু বলেছে, সৃষ্টিকর্তা হলো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা তাই তার কোন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই
কিন্তু যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ মনে করে যদি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া বিশ্বজগত সৃষ্টি হতে না পারে তবে সেই সৃষ্টিকর্তাও কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারবে নাআর যদি সেই সৃষ্টিকর্তা কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হতে পারে তবে বিশ্বজগতের সব উপাদানেরও সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি হতে কোন সমস্যা নেই

এখন প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি কোন কিছু সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক সৃষ্টি হওয়া ছাড়া সৃষ্ট হতে পারে না অথবা অস্তিত্বশীল থাকতে পারে না?
আস্তিকদের দাবী অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি হয়নিসে চিরকাল ধরেই বিরাজমান ছিল কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াইতাহলে যদি সৃষ্টিকর্তা অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হতে পারে এবং বিরাজমান থাকতে পারে তবে অবশ্যই বিশ্বজগত কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হতে পারবে অথবা বিরাজমান থাকতে পারবে
যদি বিশ্বজগতের সব উপাদান চিরদিন ধরে বিরাজ মান থাকে তবে আর সৃষ্টিকর্তার দরকার হয় না; যেমনটা আস্তিকরা সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রে বলে থাকে যে সৃষ্টিকর্তা কোন সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে এবং বেঁচে থাকতে পারছেঠিক একই ভাবে বিশ্বজগতও সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সৃষ্ট হতে পারবে অথবা বিরাজমান থাকতে পারবে এবং সৃষ্টিকর্তার কোনরুপ সাহায্য ছাড়াই বিশ্বজগত তার আপন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চলতে পারবেযেমনটা আস্তিকদের দাবী অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা নিজে নিজেই সৃষ্ট হয়ে নিজে নিজে বিরাজমান থাকে এবং সব রকম ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে, ঠিক একই ভাবে বিশ্বজগত তার নিজস্ব গুন বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিরকাল যাবৎ বিরাজমান থেকেছে এবং চিরকাল ধরে বিরাজমান থাকবে
আর তাই বিশ্বজগতের সব ক্রিয়া সম্পাদনেও সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজন নেই

আমরা জানি বিশ্বজগত বিরাজমান থাকে এবং সব রকমের কাজ সম্পাদন করে বিশ্বজগতের উপাদানের নিজস্ব ধর্ম, গুণ এবং বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীঅর্থাৎ বিশ্বজগত চলে তার নিজের গুনাবলী বা ধর্মের জন্য এবং এই গুন বা ধর্ম পদার্থবিজ্ঞানের সুত্র অনুযায়ী ঘটেপদার্থবিজ্ঞানের সুত্র মতেই বিশ্বজগতের যাত্রা শুরু হয়েছিলপদার্থের একটি ধর্ম হলো শক্তি বা এনার্জির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেইসব এনার্জি বা শক্তি সর্বদা বিরাজমান থাকে এবং তাদের মধ্যে যত ক্রিয়া কলাপই ঘটুক না কেন সেগুলো ধ্বংস হয় না, এমনকি এনার্জি বা শক্তিকে সৃষ্টিও করা যায় না
আবার এনার্জি বা শক্তি মিলিত হয়ে পদার্থ তৈরী করতে পারে এবং পদার্থ ভেঙ্গে যেয়ে শক্তিতে রুপান্তরিত হতে পারে
আর সেভাবেই বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছিলশক্তি জমাট বাধা অবস্থায় বৃহৎ বিষ্ফোরণ ঘটেছিল সৃষ্টির আদিতেআর সেই বিষ্ফোরনের ফলে শক্তি চার দিকে ছড়িয়ে পরেছিল এবং একটা নির্দিষ্ট গতিতে চারদিকে ছুঠে যাচ্ছেএই শক্তি শীতল হয়ে পদার্থের সৃষ্টি করেছিলআর এই পদার্থগুলো একত্রিত হয়ে তারকা, গ্রহ উপগ্রহ সৃষ্টি করেছিলএমনই এক গ্রহ পৃথিবীতে প্রকৃতির নিয়মে এবং বিজ্ঞানের সুত্র মেনে জড় পদার্থ থেকে প্রথমে জৈব জড় এবং পরে জীব বা প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলআর সেই জীব থেকে আজকের জীবজগত সৃষ্টি হয়েছিল কোন সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই
অর্থাৎ বিশ্বজগতের সৃষ্টির আদি মুহুর্ত থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ে সৃষ্টিকর্তা কোন ভুমিকাই রাখেনিএবং বিশ্বজগতের বিরাজমান থাকায় সৃষ্টিকর্তার কোন ভুমিকাই নেই

তাহলে একথা বলাই যায় যে, সৃষ্টিকর্তা বলে আসলে কেউ নেইযদি থাকতোই তবে বিশ্বজগত সৃষ্টির সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা কোন ভুমিকা রাখেনি কেন?
এর উত্তর একটাই, সেটা হলো আসলে সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই, তাই সে বিশ্বজগত সৃষ্টি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন ভুমিকাই রাখতে পারেনি

যেহেতু আস্তিকদের দাবী অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হতে পারে এবং বিরাজমান হতে পারে তবে সেই একই শর্ত অনুযায়ী বিশ্বজগতের মোট উপাদানও কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারে এবং সৃষ্টিকর্তার সহযোগিতা ছাড়াই বিরাজমান হতে পারে
আবার যেহেতু বিশ্বজগত সৃষ্টিতে এবং বিশ্বজগতের সব কার্য সমাধানে সৃষ্টিকর্তার কোন ভুমিকা নেই অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা কোন ভুমিকা রাখতে পারেনি তাই একথাটাই প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টিকর্তা বলে আসলে কেউ নেইমানুষ সৃষ্টিকর্তার মতো এক কাল্পনিক চরিত্রকে সৃষ্টি করে সর্বশক্তিমাণ সৃষ্টিকর্তার আসনে বসিয়েছেকিন্তু এই সৃষ্টিকর্তার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেইএই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব শুধুই মানুষের মনের কল্পনার জগতেই আছেবাস্তব জগতে নেই

আস্তিকরা দাবী করে থাকে যে, তাদের কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু, সর্বজ্ঞানী বা সর্বজ্ঞাতা অর্থাৎ অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সব কিছুই সৃষ্টিকর্তা জানে
এই দাবীগুলো অবাস্তব এবং হাস্যকর
প্রথমে সর্ব শক্তিমান বিষয়টিকে নিয়ে আলোচনা করা যাককেউ কি সর্বশক্তিমাণ হবার ক্ষমতা রাখে? উত্তরটি হবে না কেই সর্বশক্তিমান হবার ক্ষমতা রাখতে পারবে নাকেননা সর্বশক্তিমান বিষয়টিই অবাস্তব, অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক
যদি কেউ সর্বশক্তিমান হয় তবে তাকে সব কিছুই করতে সক্ষম হতে হবেযদি সে কোন একটি কাজও করতে না পারে তবে সে আর সর্বশক্তিমান থাকতে পারবে না
কিন্তু কোন স্বত্বার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়একটা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টা বুঝা যাকসর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা কি তার থেকেও অধিক ক্ষমতাবাণ কাউকে সৃষ্টি করতে পারবে?
এই প্রশ্নটির উত্তর যেটাই হোক না কেন, সেটা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার বিপক্ষেই যাবেযদি এর উত্তরে বলা হয় যে, হ্যাঁ, সৃষ্টিকর্তা তার থেকেও অধিক ক্ষমতাবাণ কাউকে সৃষ্টি করতে সক্ষমতাহলে দেখা যাবে যে সৃষ্টিকর্তার থেকেও কেউ বেশী ক্ষমতাবাণ হতে পারেঅর্থাৎ সেই সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাটি আসলে সর্বশক্তিমান নয়
আবার যদি প্রশ্নটির উত্তরে বলা হয় যে, না সৃষ্টিকর্তা তার থেকে অধিক ক্ষমতাবাণ কাউকে সৃষ্টি করতে পারে নাতবুও প্রমাণিত হবে যে সেই সৃষ্টিকর্তা আসলে প্রকৃত সর্বশক্তিমান নয় কারণ সে তার থেকে অধিক ক্ষমতাবান কাউকে সৃষ্টি করতে পারে নাতাই সে সর্বশক্তিমান নয়
ঠিক একই ভাবে বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা কি এমন ভারী জিনিস তৈরী করতে পারে যেটা সে নিজেই তুলতে পারবে না? এক্ষেত্রেও সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হতে পারবে না
সৃষ্টিকর্তা কি এমনটা করতে পারে যে তার কোন অস্তিত্বই কখনও ছিল নাএক্ষেত্রেও সৃষ্টিকর্তার সর্বশক্তিমানত্বকে মিথ্যে প্রমাণ করে
অর্থাৎ সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার ধারণাটাই অযৌক্তিক, অবাস্তব ও অবৈজ্ঞানিক  

ঠিক একই ভাবে সৃষ্টিকর্তার পক্ষে পরমদয়ালু বা সর্বজ্ঞাতা হওয়াও সম্ভব নয়কারন সৃষ্টিকর্তা যে দয়ালু নয় সেটা বাস্তব ইতিহাসই প্রমাণহাজার হাজার অসহায় মানুষ দুর্যোগে, দুর্ভোগে, অত্যাচারে, যন্ত্রনায়, না খেতে পেয়ে মারা যায় কিন্তু কোন সৃষ্টিকর্তার কোন রুপ দয়া, সাহায্য আসে নাযদি সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ থেকেই থাকতো যে কিনা দয়ালু তবে কি মানুষ এমন করে নিষ্ঠুরভাবে মরতে পারতো?
এগুলোই প্রমাণ করে যে কোন দয়ালু সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই

আবার যৌক্তিক ক্ষেত্রেও কোন সৃষ্টিকর্তার পক্ষে দয়ালু হওয়া সম্ভব নয় যদি সে সর্বজ্ঞাতা বা সর্বজ্ঞ হয়ে থাকেধরি সৃষ্টিকর্তা জানে যে ১৩.৫ বিলিয়ন বছর পর একটি ঝড় এসে অনেক মানুষকে মেরে ফেলবেযদি সৃষ্টিকর্তা দয়ালু হয়ে থাকে তবে সে সেই ঝড় থেকে মানুষকে বাঁচাবেফলে কোন মানুষই মরতে পারবে নাকারণ মরণ বিষয়টিই যন্ত্রনারযদি সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালুই হয় তবে সে কখনই কোন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে নাআবার যেহেতু সৃষ্টিকর্তা নিজে সেই ঝড় সৃষ্টি করেছে তাই সৃষ্টিকর্তা নিজেই হিংস্র, দয়ামায়াহীন
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা আসলে দয়াময় নয়
আবার সৃষ্টিকর্তা জানে যে একটা ঝড় এসে সব মানুষকে মেরে ফেলবে, বা একটা মানুষকে নৃসংশ ভাবে হত্যা করা হবে অথবা একটা মেয়েকে অনেকে ধর্ষন করে মেরে ফেলবে কারণ সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞানীতাহলে সে অসহায় মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনা কেন? যেহেতু সব জানার পরেও সৃষ্টিকর্তা অন্যায় চুপচাপ দেখে কিন্তু কিছু বলে না তাই সে পরম দয়ালু নয়

সৃষ্টিকর্তার পক্ষে কি সর্বশক্তিমান হওয়া সম্ভব যখন সে নিজেই সর্বজ্ঞাতা বা সর্বজ্ঞানীসর্বজ্ঞাতা মানে হলো সৃষ্টিকর্তা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব কিছুই আগে থেকেই জানেতাহলে যদি সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই জানে যে, প্রতিটা ঘটনা কিভাবে ঘটবে তবে সে সেই ঘটনাটিকে অন্য ভাবে ঘটানোর ক্ষমতা রাখতে পারবে নাকারণ এক্ষেত্রে ঘটনা বদলে যাবে যেটা সৃষ্টিকর্তার আগে থেকে জানাটাকে ভুল প্রমাণ করবেফলে সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হলে সর্বজ্ঞাতা হতে পারবে নাআবার যদি একটি ঘটনা এক ভাবে ঘটে বলে সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখে, তবে সেই সৃষ্টিকর্তার পক্ষে সম্ভব হবে না সেই ঘটনাটিকে বদলে দিতেকারণ যদি সৃষ্টিকর্তা কোন ঘটনাকে বদলে দেয় তবে সৃষ্টিকর্তা সেই ঘটনাকে যে ভাবে ঘটবে বলে আগে থেকেই জানতো সেটি পরিবর্তিত হয়ে যাবেআবার যদি কোন ঘটনাকে সৃষ্টিকর্তা পরিবর্তিত করে দিতে না পারে তবে সে আর সর্বশক্তিমান থাকতে পারবে নাকারণ তখন সে কোন নির্দিষ্ট ঘটনাকে পরিবর্তন করতে অক্ষম, অর্থাৎ সে আর সর্বশক্তিমান নেইআবার যদি সে সর্বশক্তিমান হয় অর্থাৎ কোন ঘটনাকে যে কোন মূহুর্তে বদলে দিতে পারে তবে তার পক্ষে আর সেই ঘটনাটিকে আগে থেকেই জানা সম্ভব হবে নাকারণ তখন সেই ঘটনাটি বদলে যাবে যেটা সৃষ্টিকর্তা আগে থেকে জানতে পারবে না
অর্থাৎ সর্বজ্ঞানী হলে সৃষ্টিকর্তার পক্ষে সর্বশক্তিমান হওয়া সম্ভব নয় আবার সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হলে সর্বজ্ঞানী হওয়াও সম্ভব নয় সৃষ্টিকর্তার পক্ষেঅর্থাৎ সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী (বা সর্বজ্ঞাতা) বিষয়টি পরস্পরের বিরোধী  

আবার সৃষ্টিকর্তা যদি সর্বশক্তিমান হয় তবে তার পক্ষে পরম দয়ালু বা সর্বজ্ঞাতা হওয়া সম্ভব নয়আবার সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞাতা হলে তার পক্ষে পরম দয়ালু বা সর্বশক্তিমান হওয়াও সম্ভব নয়যেমনটি পরম দয়ালু হলে সৃষ্টিকর্তার পক্ষে আর সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞাতা হওয়া সম্ভব হবে না
একটি যুদ্ধে যদি দুই পক্ষই সৃষ্টিকর্তার সাহায্য চায় তবে সৃষ্টিকর্তা সেই প্রার্থনা কবুল করে পরম দয়ালু হতে পারবে না যেহেতু দুই দলই সৃষ্টিকর্তার সাহায্য চেয়েছেঅর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হলেও পরম দয়ালু হতে পারবে নাআর যদি সে পরম দয়ালু হয় তবে তার পক্ষে সর্বশক্তিমান হওয়াও সম্ভব হবে নাকারণ তখন তাকে দুই দলকেই জিতিয়ে দিতে হবে যেটা সম্ভব নয়অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা যদি পরমদয়ালু হয় তবে সে সর্বশক্তিমান হতে পারবে নাআর যদি সর্বশক্তিমান হয় তবে তার পক্ষে পরমদয়ালু হওয়া সম্ভব নয়
পরম দয়ালু সৃষ্টিকর্তা ন্যায় বিচার করতে অক্ষমকারণ ন্যায় বিচার করতে হলে কারো উপর নিষ্ঠুর হতে হবেফলে তখন আর সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালু থাকতে পারবে নাআবার যদি সৃষ্টিকর্তা পরম দয়া করে অপরাধির শাস্তি লাঘব করে দেয় তবে সে অপর পক্ষের উপর অবিচার করবেঅর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার পক্ষে একই সাথে পরম দয়ালু এবং ন্যায় বিচারক হওয়া অর্থাৎ সর্বশক্তিমান হওয়া সম্ভব নয়
যেহেতু সৃষ্টিকর্তার পক্ষে ন্যায় বিচারক ও পরম দয়ালু হওয়া সম্ভব নয় তাই সে পরম দয়ালু ও সর্বশক্তিমান নয়   

আবার যদি সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞানী বা সর্বজ্ঞাতা হয় তবে সে সর্বশক্তিমান হতে পারবে না এবং পরম দয়ালু হওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হবে নাকারণ সৃষ্টিকর্তা যদি আগে থেকেই জানে যে কখন কে মারা যাবে এবং কখন কে কাকে হত্যা, ধর্ষন বা অত্যাচার করবে তবে সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালু হলে অবশ্যই তাকে সে সব অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে হবেকিন্তু যেহেতু সৃষ্টিকর্তা ঐসব অসহায় মানুষদেরকে রক্ষা করে না তাই সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালু নয়যদি সে পরম দয়ালু হয়ে থাকে কিন্তু অসহায়কে রক্ষা করে না বা করতে পারে না যদিও সে সর্বজ্ঞাতা অর্থাৎ পূর্বে থেকেই সব কিছু জানে তাহলে সে সর্বশক্তিমান নয়আবার যদি সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হয় এবং পরম দয়ালু হয় তবে সে সর্বজ্ঞাতা নয় যেহেতু সে অসহায়দেরকে রক্ষা করে না
আর তাই বাস্তব যুক্তি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার সর্বশক্তিমান হওয়া, পরম দয়ালু হওয়া এবং সর্বজ্ঞানী বা সর্বজ্ঞাতা হওয়া কখনই সম্ভব নয়আর তাই সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু এবং সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অবাস্তব, অসম্ভব এবং অবৈজ্ঞানিক
আর তাই সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু এবং সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়  

আস্তিকরা দাবী করে থাকে তাদের সৃষ্টিকর্তা পরম সত্যকিন্তু সমস্যা হচ্ছে পৃথিবীর সব আস্তিক ভিন্ন ভিন্ন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেকেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা সাদা, আবার কেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা কালোকেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা পুরুষ, আবার কেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা নারীকেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা একজন, আবার কেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা অনেকগুলোকেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তার বৌ ছেলেমেয়ে আছে, আবার কেউ বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা নপুংসক বা হিজড়া 
কিন্তু সব রকমের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বিশ্বাসী আস্তিকদের একটা কমন ব্যপার আছে; এরা সবাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তাকেই একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা বলে বিশ্বাস করে এবং বাকী সব সৃষ্টিকর্তাকে মিথ্যা সৃষ্টিকর্তা বলে রায় দেয়
খ্রিস্টান আস্তিক দাবী করে একমাত্র তার গড জেহোবা হলো একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তাখ্রিস্টানরা আবার জেহোবার সন্তান আছে বলে বিশ্বাস করেখ্রিস্টানদের দাবী অনুযায়ী জেহোবা থেকে তার সন্তান যিশু বা জেসাস ক্রাইস্টের জন্ম হয়েছেজেসাস ক্রাইস্ট বা যিশু খ্রিস্টের মাতা মেরী বা মরিয়মের মধ্যে পবিত্র আত্মা ছিল বলে সৃষ্টিকর্তা জেহোবার নির্দেশে সে যিশু খ্রিস্টকে গর্ভে ধারণ করেছিল
ফলে খ্রিস্টানরা সৃষ্টিকর্তার তিনটি অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, পিতা (ফাদার), পুত্র (সান) এবং পবিত্র আত্মা (হোলি স্পিরিট)খ্রিস্টানদের এক সৃষ্টিকর্তা হলো এই তিন সৃষ্টিকর্তার মিলিত রুপ
কিন্তু ইহুদিরা আবার সৃষ্টিকর্তার বিভাজনে বিশ্বাস করে নাইহুদিরা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা জেহোভা একজনইএবং তার কোন সন্তান নেইআর ইহুদীরাও দাবী করে একমাত্র তাদের সৃষ্টিকর্তাই হলো সত্য সৃষ্টিকর্তাবাকী দুনিয়ার সব ধর্মের সব সৃষ্টিকর্তাই মিথ্যে ও ভুয়া
মুসলমানরা আবার জেহোভাকে সৃষ্টিকর্তা মানতে নারাজতারা পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার তিত্ব সৃষ্টিকর্তার ফর্মোলাকে মানে নামুসলমানরা বিশ্বাস করে আরবের পৌত্তলিক ধর্মের প্রধান দেবতা আল্লাহ হলো ইহুদী খ্রিস্টানদের সেই সৃষ্টিকর্তা; কিন্তু আল্লাহ একজনইআল্লাহর কোন ছেলেপেলে নেই এবং আল্লাহ বিয়েও করেনিমুসলমানরা তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা মনে করেআর বাকী সব ধর্মের সবগুলো সৃষ্টিকর্তাকে মিথ্যে বলে মনে করে
কিন্তু হিন্দু ধর্মের আস্তিকরা আবার আল্লাহ, জেহোভা, পিতা-পুত্র-পবিত্র আত্মা প্রভৃতি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে নাতারা বিশ্বাস করে তাদের সৃষ্টিকর্তা হলো ভগবান (ভগমান)ভগমানই হলো পৃথিবীর একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তাআর বাকী সব ধর্মের সবগুলো সৃষ্টিকর্তাই (আল্লাহ, জেহোভা ইত্যাদি) মিথ্যে ও ভুয়া

এরকম পৃথিবীতে প্রায় চার হাজারের মতো ধর্ম আছেআর এই চার হাজার ধর্মের প্রায় দশ হাজার সৃষ্টিকর্তা আছেকিন্তু সবগুলো ধর্মই দাবী করে যে একমাত্র তাদের নির্ধারিত সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা এবং বাদবাকী সব সৃষ্টিকর্তা মিথ্যে ও ভুয়া

এখন প্রশ্ন হলো এদের সবগুলো পরস্পর বিরোধী সৃষ্টিকর্তা কি সত্য হতে পারে?
এর উত্তরে আস্তিকরা বলবে যে, না সবগুলো সৃষ্টিকর্তা সত্য নয় তবে একমাত্র তাদের ধর্মের তাদের সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা আর বাকীগুলো মিথ্যে সৃষ্টিকর্তা
কিন্তু যুক্তি বলে পরস্পর বিরোধী সবগুলো সৃষ্টিকর্তা সত্য হতে পারে নাতবে পরস্পর বিরোধী সবগুলো সৃষ্টিকর্তাই মিথ্যে হতে পারে
যেহেতু পরস্পর বিরোধী সব সৃষ্টিকর্তা এক সাথে সত্য হতে পারবে না কিন্তু তারা সবগুলোই এক সাথে মিথ্যে হতে পারবে তাই পৃথিবীর পরস্পর বিরোধী কোন সৃষ্টিকর্তাই সত্য হয়
অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের কল্পনার দ্বারা সৃষ্টি হওয়া যতগুলো সৃষ্টিকর্তা আছে তারা সবাই এক সাথে মিথ্যে এবং ভুয়া
আর তাই পরস্পর বিরোধী কোন সৃষ্টিকর্তার পক্ষেই সত্য হওয়া সম্ভব নয়ফলে পৃথিবীর কোন সৃষ্টিকর্তাই সত্য নয়

যুক্তি অনুযায়ী কোন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়কারণ যদি সব কিছু সৃষ্টি করতে একজন সৃষ্টিকর্তার একান্তই দরকার হয় তবে সেই সৃষ্টিকর্তাটিরও একজন সৃষ্টিকর্তা থাকবেআর যদি সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তার দরকার না হয় তবে কোন কিছুরই সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেইসৃষ্টিকর্তা কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই যদি সৃষ্টি হতে পারে তবে বিশ্বজগতের সব উপাদানও সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারবেফলে সৃষ্টিকর্তার কোন প্রয়োজন নেই বিশ্বজগতেরসে ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার একজন সৃষ্টিকর্তা থাকবে এবং তার আরেকজন সৃষ্টিকর্তা থাকবে এভাবেই অসীম সংখ্যক সৃষ্টিকর্তার আমদানী হবে যেটা আবার সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে মিথ্যে করে দেবে
আর তাই বিশ্বজগতের কোন সৃষ্টিকর্তা থাকা সম্ভব হবে না

বাস্তব জ্ঞান বা বিজ্ঞান অনুযায়ী বিশ্বজগত কোন সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে নিজে নিজেইফলে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বটা অ-দরকারী বা অপ্রয়োজনীয় বাহুল্যমাত্র

সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয় বলে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই এই বিশ্বজগতের
আবার পমর দয়ালু সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব নেই মানব ইতিহাসেকারণ পরম দয়ালু সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থাকতোই তবে সে জগতের শত অন্যায়, অত্যাচার, যুলুম, হত্যা, ধর্ষনের মতো হিংস্র জঘন্য অন্যায়ের বিরোদ্ধে থেকে অসহায় মানুষদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতোযেহেতু এসব জঘন্য অন্যায় জগতে ঘটে আসছে সেই প্রাচীণ কাল থেকে এবং কোন সৃষ্টিকর্তাই তাদের বাঁচাতে আসেনি, তাই কোন পরম দয়ালু সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই এই বিশ্বজগতে
যদি সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ একজন থাকবেই তবে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছে বলে কিছু থাকবে নাকিন্তু মানুষের স্বাধীন ইচ্ছে আছে বিধায় কোন সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়
আবার যদি সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হয়, পরম দয়ালু হয় এবং সর্বজ্ঞাতা হয় তবে সে মানুষকে সাহায্য করে না কেন?  
আসলে সর্ব শক্তিমান সৃষ্টিকর্তার পক্ষে সর্বজ্ঞাতা হওয়া সম্ভব নয়ঠিক তেমনি সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তার পক্ষে সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু হওয়াও সম্ভব নয়
আর তাই বিশ্বজগতে কোন সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই

পৃথিবীতে পরস্পর বিরোধী বহু সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বিদ্যমানআস্তিকদের দাবী মতো তারা সবাই সত্য হতে পারবে না কিন্তু সবাই মিথ্যে হতে পারবেআর তাই সব সৃষ্টিকর্তাই মিথ্যে
অর্থাৎ কোন সৃষ্টিকর্তারই অস্তিত্ব নেই
যুক্তি, বাস্তবতা এবং বিজ্ঞান অনুযায়ী কোন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়আর তাই বিশ্বজগতে কোন সৃষ্টিকর্তা নেইসৃষ্টিকর্তা আছে শুধুই আস্তিকদের মনের জগতেবাস্তব জগতে সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই  


5 comments:

  1. আপনার পোস্ট গুলো পড়ে বেশ মজাই পাই। খুবই চিন্তাশীল পোস্ট। তবে আপনি যেমন নাস্তিক শ্রেনীর বলে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিরোধী তত্ব প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস করেন, তেমনি আমার প্রয়াস থাকে ইশ্বর আছেন এমন কোনো তত্ব প্রতিষ্ঠিত করা।
    আপনার যেহেতু ঈশ্বর কে নিয়ে এলার্জি আছে তাই প্রথমে ধরেই নেন যে ঈশ্বর আসলে সর্বশক্তিমান না। আমাদের জগৎসংসার যে পরিচালনা করছে সে ও আমাদের মত কিন্তু আমাদের চেয়ে উন্নত শ্রেনীর প্রানী। এবং সে আমাদের সৃষ্টিই করেছেন তার স্বার্থ হাসিলের জন্য। তার গুনগান শোনার জন্য।
    তো এমন কি হওয়ার সম্ভবনা নেই, যে আমরা ওই অতি উন্নত প্রানীর তৈরী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের একটি অংশ? খুব সুন্দর গ্রাফিক্স এর একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। আমরা সেই প্রোগ্রামের কিছু এলিমেন্ট যাদের নিজের ই সবরকমের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীন ক্ষমতা আছে। এভাবে চিন্তা করলে কিন্তু ঈশ্বর সম্পর্কে সহজাত একটা ধারনা করা যায়। আর এই জগৎ নামক প্রোগামে তার যে সব কিছু করার ক্ষমতা থাকতে পারে তার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। আর এরকম ঈশ্বরও যদি থেকে থাকে তাহলে যারা যারা তার কথামত চলবে না তাদের জন্য সে ভয়াবহ শাস্তি রাখতেই পারে।

    এবার একটু অন্যভাবে চিন্তা করি।
    ঈশ্বর কিন্তু কখনওই কাউকে দেখা দেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তার আকার আকৃতি নেই। মৃত্যু নেই। সে সবখানে আছে। কি এমন জিনিস যার এরকম বৈশিষ্ঠ্য থাকতে পারে?
    একটা জিনিসের কথা কিন্তু আপনি ভাবতেই পারেন। তা হল শক্তি। হতে পারে জগতের সমগ্র/মোট শক্তি ই আসলে ঈশ্বর।
    এবার বলেন তো
    শক্তি পুরূষ না স্ত্রী?
    তার আকার কেমন?
    তার কি বিনাশ সম্ভব?
    সে কোথায় নেই?
    বিগ ব্যাং থিওরী অনুযায়ী আমরা তো শক্তি থেকেই উৎপন্ন। তার মানে আমরা শক্তির অংশ। আমরা ঈশ্বরের অংশ।

    আরও অনেকভাবে হয়ত ইশ্বরকে চিন্তা করা যায়। কিন্তু এইভাবে চিন্তা করলে ঈশ্বর নামক সত্বা সম্পর্কে একটা ধারনা হয় আর সত্যিই প্রমান হয় যে ঈশ্বর আছেন।


    তবে প্রশ্নের মধ্যে একটা প্রশ্ন আমি করতে চাই,
    বিজ্ঞানীদের মতে বিগ ব্যাং থেকে সব কিছুর উৎপত্তি। এখন বিগ ব্যাং সংগঠিত হওয়ার জন্য একটা যায়গা বা স্পেসের নিশ্চই প্রয়োজন হয়। যেখানে বিগ ব্যাং হয়েছে। ঐ যায়গা বা স্পেস কিভাবে সৃষ্টি হল আর কে ই বা সৃষ্টি করলো?

    ReplyDelete
    Replies
    1. বিগ ব্যাং নির্দিষ্ট কোন স্থানে হয়নি। বিগ ব্যাং এর আগে তো স্থান জিনিসটার অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি বিগ ব্যাং এর আগে বলেও কিছু নেই। কারণ সময় এবং স্থান উভয়ই বিগ ব্যাং এর পরে উৎপন্ন হয়েছে। তাহলে বিস্ফোরণ ঘটল কোন স্থানে ? বিগ ব্যাং কোন ঘটনা নয়। ঐ বিস্ফোরণকে বিগ ব্যাং বলে না। বিস্ফোরণ ঘটার মুহূর্তকে ( ঐ সময়কে ) বিগ ব্যাং বলে। বিস্ফোরণ সব স্থানে ঘটেছে। কেননা, স্থান সময় পদার্থ শক্তি সব মিলেমিশে একাকার হয়েছিল একটি বিন্দুতে। সেই বিন্দুই স্থানের জন্মদাতা। তাহলে বিন্দুটা কোন স্থানে ছিল ? ঐ বিন্দুর কোন outside নাই, বাহির বলে কিছু নাই। বিন্দুটাই সব কিছু। যা কিছু ছিল, যা কিছু বর্তমানে আছে এবং যা কিছু ভবিষ্যতে থাকবে। সবই ঐ বিন্দু। কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু প্রকৃতির বাস্তবতা কল্পনাকেও হার মানায়। ঐ বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি।

      Delete
  2. খুবই হাস্যকর পোস্ট,,,খুবই নিম্মমানের সস্তা চিন্তা ভাবনা।

    ReplyDelete
  3. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  4. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete